কনফিউশন | পর্ব ২২ | কাব্যর রহস্যময় স্বপ্ন ও আরশির লাল শাড়ি

কাব্য আরশির সাথে বনে হাঁটার রহস্যময় স্বপ্ন দেখে ঘুম থেকে চমকে ওঠে। স্বপ্নের প্রতিটি দৃশ্য বিশ্লেষণ করে সে আশঙ্কা করে আসন্ন দূর্ঘটনার। আরশির লাল শাড়ি ও গর্তে পতনের ইঙ্গিত তাকে নাড়া দেয়। তিরা যাদিদের পাশে শেষ রাত কাটায়, মন খারাপ হয়ে যায় বিদায়ের আগে।

কনফিউশন পর্ব ২২
লেখকঃ মৌরি মরিয়ম

আরশি একটা লাল রঙের শাড়ি পরেছে। চুলগুলো খোলা। কোনো এক বনের ভেতর সে কাব্যর হাত ধরে পাশাপাশি হাঁটছে। আরশি কি হাসছে নাকি বিষন্ন সেটা বোঝার জন্য কাব্য আরশির দিকে তাকিয়ে আছে কিন্তু বুঝতে পারছে না কারণ আরশির চুলগুলো তার মুখটা ঢেকে রেখেছে। মুখটা দেখার জন্য একটু এগিয়ে যেতেই হঠাৎ সে একটা বিশাল গর্তে পড়ে গেলো। আরশি কাব্যকে ধরে রাখতে না পেরে চিৎকার দিলো। ঠিক সেই মূহুর্তেই কাব্যর ঘুমটা ভেঙে গেলো। লাফিয়ে উঠে বসলো। ঘাম হচ্ছে হঠাৎ! এ কী আজব স্বপ্ন দেখলো সে? এই স্বপ্নের অর্থ কী?

অদ্ভুত এক ঘ্যার ঘ্যার শব্দে তিরার ঘুম ভেঙে গেলো। প্রথমে ভয় পেয়ে গেলেও কিছুক্ষণের মধ্যে সে আবিস্কার করলো তার সেরা ক্রাশ বিকট শব্দে নাক ডাকছে। তিরা যাদিদের বুকে হাত বুলিয়ে দিলো। সাথে সাথেই তার নাক ডাকা বন্ধ হয়ে গেলো। তিরা আপনমনেই হেসে ফেললো। পরক্ষণেই আবার মনটা খারাপ হয়ে গেলো এই ভেবে যে কাল থেকে ঘুম ভাঙলে এই মানুষটাকে আর পাশে দেখতে পাবে না। কীভাবে কেটে গেলো বিবাহিত জীবনের পাঁচটা দিন! এই পাঁচ দিন সময় এতো দ্রুত কেন অতিবাহিত হলো?

স্বপ্নটা দেখে ঘুম ভেঙে আর ঘুমোতে পারলো না কাব্য। প্রচন্ড অস্বস্তি হচ্ছে তার, সাথে মাথাব্যথা। আরশি শাড়ি পরতে পছন্দ করে না, পছন্দ করেনা কোনো রঙও। যদিও তার নিজের শাড়ি খুব পছন্দ তবুও যেহেতু আরশির অপছন্দের কথা সে জানে, তার মস্তিষ্কের কখনোই আরশিকে শাড়িতে কল্পনা করার কথা নয়। সচরাচর আমরা যা ভাবি তাই নিয়েই স্বপ্ন দেখি। কিন্তু আমাদের ভাবনার বাইরের বিষয় নিয়ে যখন স্বপ্ন দেখি তার একটা বিশেষ অর্থ থাকে। এই অর্থটা হয় কোনো বিশেষ ঘটনার আগমনী ইঙ্গিত। কাব্য এটা বিশ্বাস করে কারণ একাধিক বার সে এমন অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে গেছে।
সিগারেট ধরালো কাব্য। আপাতত সে এই স্বপ্নের অর্থ খোঁজার চেষ্টা করছে। প্রথমে তারা বনের ভেতর হাত ধরে হাঁটছিলো, এই দৃশ্য বিশ্লেষণ করলে দাঁড়ায় তারা একই পথে হাঁটছে এটার অর্থ হতে পারে আরশি এবং সে দুজনেই দুজনার প্রতি আগ্রহী।
স্বপ্নে সে আরশির মুখটা দেখতে চাচ্ছিলো সে কিন্তু চুলের জন্য দেখতে পারছিলো না। এই দৃশ্যের অর্থ হতে পারে আরশিকে এবং আরশির বিষন্নতার কারণ জানার তার প্রবল আগ্রহ অথচ আরশি নিজের চারপাশে এমন এক দেয়াল তৈরি করে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছে যার জন্য সে জানতে পারছে না। স্বপ্নে সে নিজে আরশির চুল সরিয়ে দেখতে পারতো, কিন্তু দেখেনি ঠিক যেমন বাস্তবে সে কখনোই আরশিকে জানার জন্য নিজ থেকে কোনো প্রশ্ন করেনা।
আরশিকে দেখতে গিয়েই সে গর্তে পড়ে গেলো। গহীন জঙ্গলে আরশি একা হয়ে পড়লো। এই দৃশ্যের অর্থ হতে পারে আরশিকে জানতে গিয়ে তার নিজের সাথে বড়ো কোনো দূর্ঘটনা ঘটবে, অন্যদিকে একই দূর্ঘটনায় আরশি গহীন জঙ্গলে একা হয়ে যাওয়ার মতোই কোনো বিপদে পড়বে।
এইটুকু আপাতত ক্লিয়ার কিন্তু আরশির পরনের লাল শাড়ির কোনো অর্থ এখনো খুঁজে পাচ্ছেনা কাব্য।

আসন্ন দূর্ঘটনা থেকে কাব্য যদি নিজেকে এবং আরশিকে বাঁচাতে চায় তাহলে অবশ্যই তাকে আরশির চিন্তা মাথা থেকে নামিয়ে ফেলতে হবে। অনেক দূরে থাকতে হবে তার থেকে। কিন্তু ঢাকা ফিরে আসার পর গত চার-পাঁচ দিনে তার মস্তিষ্ক এতোটাই উত্তপ্ত ছিলো যে আরশিকে নিয়ে ভাবার সু্যোগ পায়নি সে। এ কদিনে সে একবারও আরশিকে দেখেনি কোথাও। এমনকি একটা মেসেজ বিনিময়ও হয়নি। আগের থেকে দূরত্ব বেড়েছে। তাহলে হঠাৎ এমন স্বপ্ন দেখার কারণ কী? মাথাব্যথায় মাথাটা ছিড়ে যাচ্ছে।

চলবে..

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।