সিরিজ নাইওরি

নাইওরি | পর্ব ১ | জেসমিনের নাটক শোনার বায়না ও রঞ্জুর ডায়েরি

কেশবপুর গ্রামের প্রভাবশালী চেয়ারম্যান জয়নাল মির্জার বাড়িতে আষাঢ়ের বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় নাটক শোনার আসর। তার কন্যা জেসমিন নাটক শোনার জন্য বায়না করে বারান্দায় জায়গা পায়। অন্যদিকে, সূর্যমনি গ্রামে ফিরে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রঞ্জু ডায়েরি লিখে ক্ষোভ উদ্বেগ উদ্গীরণ করে, শহরের স্মৃতি আর গ্রামের নিস্তব্ধতায় মন ভারী।

নাইওরি | পর্ব ২ | জেসমিনের আমভর্তা ও রঞ্জুর প্রথম দেখা

আষাঢ়ের বৃষ্টিভেজা দিনে জেসমিন পুকুরঘাটে আমভর্তা বানাচ্ছিল, আর রঞ্জু ধান বাঁচাতে এসে তাকে প্রথম দেখে মুগ্ধ হয়। বৃষ্টির মধ্যে একসাথে হোগলা তুলতে গিয়ে দুজনের চোখাচোখি, কিন্তু মানিক রঞ্জুকে সতর্ক করে দেয়—জেসমিন চেয়ারম্যানের মেয়ে, স্পর্শ করা নিষিদ্ধ।

নাইওরি | পর্ব ৩ | রঞ্জুর চিঠি ও জেসমিনের অপেক্ষা

জেসমিন রঞ্জুর চিঠি পায়, যেখানে কামিনী ফুল ও কবিতার মাধ্যমে তার ভালোবাসা জানানো হয়। চিঠির রহস্যময় প্রেরক কে সে নিয়ে জেসমিনের মন ঘোরে। সপ্তাহখানেক পর আবার চিঠি আসে, আর জেসমিন ধীরে ধীরে রঞ্জুর প্রতি আকৃষ্ট হয়।

নাইওরি | পর্ব ৪ | রঞ্জুর পরিচয় ও জেসমিনের প্রথম দেখা

জেসমিন রঞ্জুকে ভীতু বলে চিঠি লেখে, কিন্তু রঞ্জুর আবেগঘন উত্তরে তার মন নরম হয়। কামিনী ফুলের গাছের পানি দেওয়ার আমন্ত্রণে জেসমিন রঞ্জুর সাথে প্রথমবার মুখোমুখি হয়। দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠে ভালোবাসার প্রথম মুহূর্ত, আর মতি হয়ে ওঠে তাদের গোপন যোগাযোগের চাবিকাঠি।

নাইওরি | পর্ব ৫ | জমির দ্বন্দ্ব ও জেসমিন-রঞ্জুর প্রেম

হারুন ব্যাপারী ও জয়নাল মির্জার মধ্যে জমির দখল নিয়ে উত্তেজনা চরমে। এদিকে জেসমিন ও রঞ্জু গোপনে দেখা করে, প্রেমের স্বপ্ন দেখে। মানিক তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, কিন্তু জেসমিন আত্মবিশ্বাসী। রঞ্জু চাকরি শুরু করে ভবিষ্যৎ গড়ার প্রতিজ্ঞা করে।

নাইওরি | পর্ব ৬ | জেসমিন-রঞ্জুর গোপন দেখা ও মিত্তির দিঘির রহস্য

জেসমিন কুটুমবাড়িতে এসেছে, আর রঞ্জু অপ্রত্যাশিতভাবে তার কাছে আসে। মানিকের সাহায্যে ঠিকানা পেয়ে রঞ্জু জেসমিনকে দেখতে আসে। দুজন মিত্তির দিঘিতে ডোঙায় বসে কথা বলে, যেখানে জেসমিন দিঘির রহস্যময় কাহিনী শোনায়। কিন্তু ইয়াসিন আলী তাদের দেখে ফেলে, আর তারা সাঁতরে পালায়। রাতে রঞ্জু জেসমিনের জ্বরের খবর পেয়ে জানালায় আসে।

নাইওরি | পর্ব ৭ | সালিশের আগে জেসমিনের সাহসী স্বীকারোক্তি

রঞ্জুকে গাছে বাঁধা অবস্থায় সালিশের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। জেসমিনকে ঘরে বন্দি করা হয়েছে। সালিশে ডাকা হলে সে সাহস নিয়ে ঘোষণা করে, রঞ্জু তাকে উত্যক্ত করেনি, তারা পরস্পরকে ভালোবাসে। এই স্বীকারোক্তিতে গোটা উপস্থিত সালিশ ও পরিবার চমকে যায়।

নাইওরি | পর্ব ৮ | সালিশের পর বিয়ের প্রস্তাব ও রঞ্জু-জেসমিনের মুহূর্ত

সালিশে জেসমিনের সাহসী ভালোবাসা স্বীকারোক্তির পর হারুন ব্যাপারী রঞ্জু-জেসমিনের বিবাহের প্রস্তাব দেন। সকলের সমর্থনে বিয়ে স্থির হয়, আর রঞ্জুকে গাছে বাঁধা থেকে জামাই আদর করা হয়। রাতে তাদের জন্য কয়েক মুহূর্ত একা থাকার সুযোগ হয়, যখন জেসমিন অপরাধবোধ নিয়ে কাঁদে, আর রঞ্জু তাকে শান্ত করে।

নাইওরি | পর্ব ৯ | ঝড়ের রাতে কবিতা ও অন্ধকারের গান

জেসমিনকে শ্বশুরবাড়ি পাঠানোর পর রঞ্জুর বাড়িতে বউ দেখার ভিড় নামে। ঝড়ের রাতে জেসমিন কামিনী ফুলের গাছ দেখতে চায়, রঞ্জু আটকালে অভিমান করে। রঞ্জু তাকে কবিতা শোনায়, অভিমান মিটে যায়। অন্ধকারে হারিকেন নিভিয়ে রঞ্জু ফিসফিস করে, “চলো দেখাই তুমি আমার কেমন অন্ধকারের গান”।

নাইওরি | পর্ব ১০ | মসলা বাটার প্রথম দিন ও জমির দ্বন্দ্ব

জেসমিন শ্বশুরবাড়িতে মসলা বাটতে বাধ্য হয়, রঞ্জু তাকে সাহায্য করে। রঞ্জু ঢাকায় চলে যাওয়ার পর জেসমিন কেশবপুরে আসে। হারুন ব্যাপারী জয়নাল মির্জাকে কালিসুরির জমি নিয়ে কথা তোলে, কিন্তু চেয়ারম্যান সূক্ষ্ম হুমকি দিয়ে বিষয়টি ঘুরিয়ে দেন। হারুন বুঝতে পারেন, বিয়েটি ছিল ভুল সিদ্ধান্ত।

নাইওরি | পর্ব ১১ | জমির মামলা ও জেসমিনের বাড়িতে অপেক্ষা

জয়নাল মির্জার বিরুদ্ধে জমির মামলা দায়ের করেছেন হারুন ব্যাপারী। আদালতের সমন পেয়ে জয়নাল মির্জা উকিল আলমগীর মৃধার কাছে যান, কিন্তু উকিল তাকে ৫ হাজার টাকা দিতে বলেন হারার বিনিময়ে। এদিকে, জেসমিন রঞ্জুকে চিঠিতে বাড়িতে অপেক্ষার ডাক দেয়, কামিনী ফুলের গাছের মতো তার ভালোবাসাও ফুটবে না বলে আবেগঘন আহ্বান জানায়।

নাইওরি | পর্ব ১২ | উকিল আলমগীরের মৃত্যু ও জমির আদালত রায়

উকিল আলমগীর মৃধার রহস্যময় মৃত্যুর পর হারুন ব্যাপারী আদালতে তার রেখে যাওয়া প্রমাণ নিয়ে হাজির হন। বিবাদী পক্ষ অনুপস্থিত থাকায় কালিসুরির জমি আদালত হারুনের নামে ঘোষণা করে। এদিকে, জেসমিন রঞ্জুর কবিতার চিঠি পায় এবং তার ভালোবাসায় মুগ্ধ হয়।