প্রিয় অভিমান | পর্ব ৩ | রুহানির বাজিমাত ও রনকের স্বপ্ন
রুহানি ফালাকের নাম্বার ছড়ানোর পরিকল্পনা করে, কিন্তু ভুল নাম্বারে ফাঁদে পড়ে। স্যার তাকে রনকের সাথে বসায়। গ্রামের ছেলে রনকের বাবার স্বপ্নের কথা শুনে রুহানির মন নরম হয়। ফালাক দূর থেকে সব দেখে।
রুহানি ফালাকের নাম্বার ছড়ানোর পরিকল্পনা করে, কিন্তু ভুল নাম্বারে ফাঁদে পড়ে। স্যার তাকে রনকের সাথে বসায়। গ্রামের ছেলে রনকের বাবার স্বপ্নের কথা শুনে রুহানির মন নরম হয়। ফালাক দূর থেকে সব দেখে।
রুহানি ফালাকের গাড়ির চাকায় পিন ঢুকিয়ে প্রতিশোধ নেয়। ফালাক চাকা ফেটে যাওয়ায় জরুরি মিটিংয়ে যেতে বিপদে পড়ে। শুভের গাড়িতে চড়ে সময় মতো পৌঁছায়। এদিকে রুহানি ক্লাস টেস্টে মাত্র ৬ পায়, স্যার বাবার কাছে খবর দেবার হুমকি দেয়। রুহানি ভয়ে পড়ে যায়।
ভার্সিটির আতংক রুহানি আর নতুন সিনিয়র ফালাকের মুখোমুখি হওয়ায় শুরু হয় তীব্র সংঘাত। পা বাড়িয়ে ফালাক পড়ে যায়, হাসির মাঝে শুরু হয় অপমানের খেলা। কিন্তু ফালাক নিজেকে সামলায়, পাল্টা দেয় তীক্ষ্ণ কথায়। রুহানি হার মানে না, ঘোষণা করে যুদ্ধ। চ্যালেঞ্জ গৃহীত হয়। শুরু হলো প্রিয় অভিমানের গল্প।
মেহের টুইন বাচ্চার মা হয়েছে—একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। ফায়াজ আনন্দে ভেঙে পড়ে। চার বছর পর, পরিবার সুখে আছে। সকালের নাস্তা, স্কুল পাঠানো, আর রাতে ফায়াজের লাল শাড়ি উপহার—সবেতে ভরপুর তাদের ভালোবাসা। গল্পের শেষ হয় সুখের নেশায়।
মেহেরের বাবা তাকে ও ফায়াজকে ক্ষমা চায়। রাতে মেহের আর ফায়াজের মধুর মুহূর্ত চলে। কয়েকদিন পর ফায়াজ জানতে পারে মেহের গর্ভবতী। সবাইকে খুশির খবর দেয়। ফাইজা বেবির ফুপ্পি হওয়ার ঘোষণা দেয়। গল্পটি শেষের পথে।
ফায়াজ মেহেরের সামনে হাজির হয় এবং নিজেকে শাস্তি চায়। মেহের তাকে সারাজীবন ভালোবাসার শাস্তি দেয়। রাতে মেহের নিশ্চিত করে যে সব সত্যি, আর ফায়াজ তাকে হারিয়ে ফেলার ভয়ে আতঙ্কিত হয়। পরদিন সকালে পরিবারের সাথে মধুর মুহূর্ত কাটে।
ফায়াজ মেহেরের কাছে অনুতপ্তি জানাতে আসে, নিজেকে অপরাধী স্বীকার করে। মেহের তাকে শাস্তি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ফাইজা মেহেরকে ফিরে আসার জন্য অনুরোধ করে। শেষে ফায়াজের ঘরে ফুল, মোমবাতি আর গোলাপের পাপড়ি দেখে সে অবাক হয়ে যায়—মেহের ফিরে এসেছে।
ফায়াজ মেহেরের জন্য অনুশোচনায় ভেঙে পড়ে, বন্ধুদের উপর রাগ প্রকাশ করে এবং হাসপাতালে মেহেরের কাছে চুপিসারে ভালোবাসা জানায়। মেহের চোখ খুলে ফায়াজের নাম ধরে কাঁদে, আর ফায়াজ বাড়িতে গিয়ে পরিবারের কাছে নিজেকে হারিয়ে ফেলে।
মেহের ফায়াজের ঘৃণা সহ্য করতে না পেরে কফিতে বিষ মিশিয়ে খায়। ফায়াজ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়, কাঁদতে কাঁদতে। মিহু চিঠি দিয়ে সব সত্য ফাঁস করে। ফায়াজ জানতে পারে মেহের বিয়ে জোর করে হয়েছিল, সে কখনো তাকে ঠকায়নি।
মিহুর গর্ভবতী হওয়ার খবরে মেহেরের পরিবারে ফিরে আসে আনন্দ, কিন্তু ফায়াজের মনে জাগে ব্যথা। মেহেরের লাল শাড়ি দেখে স্মৃতি ফিরে আসে, আর পার্টির আগে তাকে শাড়ি বদলাতে বাধ্য করে। রাতে মদের নেশায় ফায়াজ কাঁদে—কেন মেহের তাকে কিছু দেয়নি, কেন তাদের জীবনে সুখ নেই।
মিহুর বিয়ে নিয়ে মেহেরের বাবা ফায়াজকে দোষ দেয়, কিন্তু মেহের সব দায় নিজের ঘাড়ে নেয়। বাবা মেহেরকে ক্ষমা করবেন না বলে ফোন রাখেন। মেহের ছাদে বৃষ্টিতে ভিজছে, ফায়াজ তাকে খুঁজে পায়। গভীর আবেগের মুহূর্তে ভাঙছে হৃদয়।
মিহুর প্রেমের বিষয়ে ফায়াজ মেহেরের বাবার সাথে কথা বলে, কিন্তু তার প্রতিক্রিয়া সন্তোষজনক নয়। মেহের আহিলের পরিবারের সম্মতি নেয় এবং গোপনে বিয়ের পরিকল্পনা করে। ফায়াজ মেহেরকে সাজতে দেখে মুগ্ধ হয় এবং তার কপালে তিলে চুমু দেয়, যা মেহেরের হৃদয় নাড়িয়ে দেয়।